মানবদেহের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে কিডনি অন্যতম। কিডনি শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ থেকে শরীর থেকে বের করে দেয়।

মানুষের শরীরে দুইটি কিডনি থাকে। কিডনি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় । এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। কিডনিতে কোন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা করাতে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই কিডনির যত্ন নেওয়া খুবই জরুরী।

কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে চললে কিডনির সমস্যা হয় না। কিডনির সমস্যা নির্ভর করে আপনি কী খাচ্ছেন অথবা আপনার জীবন যাপনের উপর। আপনার খাবার এবং জীবন-যাপন যদি ঠিক থাকে তাহলে কি তুমি কখনোই নষ্ট হবে না। 

কিডনি ভালো থাকার খাবার

কোন কোন খাবার কিডনির জন্য ক্ষতিকর

15 টি খাবারের নাম বলছি যে খাবারগুলো খেলে আপনার কিডনি ভালো থাকবে। সাথে আপনার শরীরের অন্যান্য দিকে অনেক উপকার হবে। 

প্রতিটা ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। কিডনি ভালো রাখার জন্য বাজারে অনেক ওষুধ পাবেন কিন্তু সেগুলো খাওয়া মোটেও ঠিক হবে না। প্রাকৃতিক ভাবে যে কোন খাবার খেলে তাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না। কিডনি ভালো রাখার জন্য অবশ্যই প্রাকৃতিক খাবারগুলো খাবেন। 

কোন কোন খাবার খেলে কিডনি ভালো থাকে?

  1. প্রচুর পরিমাণে পানি। 
  2. সকল প্রকার ফল
  3. সবজি জাতীয় খাবার।
  4. পরিমিত পরিমাণে মাছ মাংস
  5. ঢেঁকিছাটা চাল।

কোন কোন খাবার কিডনির জন্য ক্ষতিকর? 

কোন কোন খাবার কিডনির জন্য ক্ষতিকর

  1. লবণ
  2. বেশি প্রোটিন যুক্ত খাবার।
  3. রক্তচাপ বেড়ে যায় এমন খাবার। 
  4. চিনি জাতীয় খাবার
  5. অতিরিক্ত ওষুধ সেবন
  6. নেশা করো
  7. অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস খাওয়া। 

কিডনি ভালো রাখতে পানির প্রয়োজনীয়তা: 

প্রতিদিন অন্তত 8 থেকে 10 গ্লাস পানি খেতে হবে। অবশ্যই পানি ফুটানো বা ফিল্টার করা হতে হবে। পানিতে কোন প্রকার আয়রন থাকা যাবে না। আয়রন যুক্ত পানি কিডনি সবথেকে বেশি ক্ষতি করে।

কিডনি ভালো রাখতে আপনার শরীরে সবসময় পানির পরিমাণ বেশি থাকতে হবে। যদি ঘামতে থাকেন তাহলে অবশ্যই আরো বেশি পানি খেতে হবে। 

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেলে কিডনি সুস্থ থাকে এবং কিডনিতে কোন প্রকার পাথর হয় না। 


কিডনি ভালো রাখার জন্য ফল খাওয়া

সৃষ্টিকর্তা ফল এ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং প্রোটিন দিয়েছে। এছাড়াও আয়রন, শর্করা, সালফার সহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও খনিজ  উপাদান দিয়েছে, যা মানবদেহের জন্য খুবই প্রয়োজন।

আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালো রাখতে হলে নিয়মিত ফলমূল খেতে হবে। নিয়মিত ফলমূল খেলে আপনার কিডনি এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আপনার শরীরের সকল ধরনের খাবার সুষম ভাবে দিতে হবে।

  • আম
  • আনারস
  • আপেল
  • আঙ্গুর।
  • তালের শাঁস
  • তরমুজ
  • বাঙ্গি
  • পেয়ারা
  • শসা (যদিও এটি এক প্রকার সবজি)

তবে এই সকল ফল অতিরিক্ত খাওয়া যাবেনা। 


সবজি খেলে কিডনির উপকার মেলে

সবজিতে রয়েছে নানান ধরনের প্রাকৃতিক এবং খনিজ উপাদান যা শরীরের দৈহিক গঠন এবং প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কে সুস্থ রাখতে শাকসবজি অনেক ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি বেশি শাকসবজি খায় তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি বেশি দ্রুত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খুবই ভালো থাকে। কিডনি ভালো রাখতে শাকসবজির বিকল্প নেই। 

  • কচু শাক
  • লাল শাক
  • পালং শাক
  • লাউ

প্রায় সকল প্রকারের শাকসবজি। তবে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। 


প্রোটিনযুক্ত খাবার

শুধুমাত্র শাকসবজি খেলে আপনার শরীরের সকল পুষ্টি উপাদান পূরণ হবে না। তাই প্রোটিন আমিষ ইত্যাদি অভাব পূরণ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে মাছ এবং মাংস জাতীয় খাবার খেতে হবে। অল্প পরিমাণে মাছ মাংস খেলে কিডনির ক্ষতি হয় না । বরং কিডনি সুস্থ থাকে। 

“বাজে খাবার খাব না কিডনির ক্ষতি করব না”

  • মাছ
  • মাংস
  • ডিম ইত্যাদি প্রোটিনযুক্ত খাবার। 

কিডনি ভালো রাখার জন্য আপনি যদি খাবার খান তাহলে কিডনি ভালো থাকবে। এই পদ্ধতিতে আপনার কিডনি যে পরিমাণ সুস্থ থাকবে তার থেকে বেশি সুস্থ থাকবে যদি আপনি কিছু খাবার পরিহার করেন। সকল খাদ্য আপনার কিডনিতে সরাসরি ক্ষতি করে সে সকল খাদ্য খাওয়া বন্ধ করতে হবে। 


কম লবন খাওয়া: 

কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু লবণ। তাই কিডনিকে ভালো রাখতে লবণ পরিহার করার কোনো বিকল্প নেই। কাঁচা লবণ শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এছাড়াও তরকারিতে খুবই সামান্য পরিমাণ লবণ খাওয়া উচিত। তবে লবণ একদম খাওয়া বন্ধ করা ঠিক না। লবণে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ রয়েছে যা শরীরে পুষ্টি হিসেবে কাজ করে। 

মানুষের শরীরে 1 চা চামচের কম লবণ প্রতিদিন চাহিদা থাকে। 


প্রোটিন যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে সমস্যা হয়

হ্যাঁ, অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার কিডনিতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রোটিনযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। তাহলে আপনার কিডনি ভালো থাকবে। 


কিডনি সুস্থ রাখতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

শরীরে রক্তচাপ বেশি থাকলে কিডনিতে অনেক প্রভাব পড়ে। ফলে কিডনি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা খুব জরুরী। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক রক্তচাপ 120/80 ।

আপনার শরীরে 130/80 রক্তচাপ থাকলে আপনি তাও স্বাভাবিক অবস্থাতে থাকবেন। এর বেশি রক্তচাপ হওয়া যাবে না ফলে আপনার শরীর এবং কিডনিতে বিভিন্ন প্রকার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কারণে ব্রেন স্ট্রোক সহ নানান ধরনের মরণব্যাধি দেখা দেয়। 

রক্তচাপ কমাতে প্রোটিন যুক্ত খাবার কম খান এবং লবণ কম খেতে হবে। 

এছাড়াও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। 


কিডনিতে ডায়াবেটিস । বাঁচার উপায়

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ডায়াবেটিস রোগের আবির্ভাব ঘটে। এই রোগ ধীরে ধীরে আপনার শরীরের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করতে থাকে। কিডনিসহ আপনার হার্ট লেবার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রোগ ব্যাধি বাসা বাঁধতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে আপনার কিডনি সুস্থ্য থাকবে। 


চিনি জাতীয় খাবার কম খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

অনেক মানুষের ধারণা তিতা অথবা টক জাতীয় খাবার খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। তিতা এবং টক জাতীয় খাবার কেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এখানে দেখুন। 


অধিক পরিমাণে ওষুধ এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য

প্রতিটা ওষুধের রয়েছে পার্শপ্রতিক্রিয়া । 60 ভাগ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সরাসরি আপনার কিডনিতে আঘাত করে। তাই অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করা মোটেও ঠিক না। ছোট খাটো অসুখের জন্য প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে অসুখ ভালো করা প্রয়োজন। যেমন জ্বর আসলে আনারস অথবা একটু টক জাতীয় খাবার খেলে জ্বর ভালো হয়ে যায়। 

এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য কিডনির জন্য খুবই ক্ষতিকর। গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ইত্যাদি কিডনিতে সরাসরি খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করে। 


অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া

কোন কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। কিডনি ভালো রাখার জন্য অনেক খাবার আছে কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত খান তাহলে উল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ভিটামিন-সি আপনার শরীর এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য খুবই উপকারী ভিটামিন। কিন্তু এই ভিটামিন সি যদি আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে সেবন করেন তাহলে আপনার কিডনিতে অনেক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাই যে কোন খাবার পরিমাণমতো খাওয়া খুবই প্রয়োজন। আপনার শরীরে প্রতিদিন 500 মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি’ প্রয়োজন হয় না। 500 মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি আমরা স্বাভাবিক ভাবে যে খাবার খেয়ে থাকি তা থেকে পূরণ হয়ে যায়।


কোমল পানীয় না খাওয়া

বর্তমানে কম বয়সী ছেলেমেয়েরা পানির বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন প্রকার কোমলপানীয় অথবা এনার্জি ড্রিংকস খেয়ে থাকেন। এই কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হয়তো আপনি যুবক জন্য এই বয়সে এই ক্ষতি বুঝতে পারবেন না কিন্তু আপনি যখন বয়স্ক হবেন তখন এর প্রভাব আপনার শরীরে দেখা দিবে। তাই তৃষ্ণা মেটানোর জন্য কমল পানীয়র  পরিবর্তে অবশ্যই সাধারণ পানি পান করুন

 এছাড়াও কিছু খাবার

বিভিন্ন প্রকার ফাস্টফুড সি এস বাজারের অনুন্নত কেক বিস্কিট ইত্যাদি আপনার কিডনির জন্য ক্ষতিকর। এই সকল খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 


কিডনিতে ডাক্তার

কিডনি ভালো রাখতে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখুন। পরিবারে কারো কিডনি সমস্যা থাকলে অন্যদেরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই সব সময় ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

কিডনি সমস্যার কারণে প্রতিবছর প্রায় 15 থেকে 20 শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে। নিজে সুস্থ থাকতে অবশ্যই আপনার কিডনি এবং আপনার শরীরের যত্ন নিতে হবে। জন্য আপনার জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই সব সময় ডাক্তারের পরামর্শ মতো চলুন। 

By Mahedi

লেখালেখি আমার সখ ও পেশা। আমি টেক্সটাইল এর উপর বিএসসি করেছি। কিন্তু পেশা হিসেবে ব্লগিংকে বেছে নিয়েছি। বর্তমানে এটি খুবই সন্মানজনক পেশা। আমি সাধারণত খেলাধুলা, ছবি, পড়াশোনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখতে ভালবাসি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *