কিডনি রোগের কারণ

বর্তমানে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য মানুষ একদম উঠে পড়ে লেগেছে । কারণ বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি সমস্যায় ভুগছেন।

কিডনি রোগকে বলা হয় নীরব ঘাতক । এই রোগ আপনার শরীরের ধীরে ধীরে বাসা বাঁধে এবং আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়। 

কিডনির রোগকে কেন নীরব ঘাতক বলা হয়?

আপনার শরীরে যখন কিডনি 70 থেকে 80 ভাগ নষ্ট হয়ে যাবে, তখন এই কিডনি সমস্যা বা  লক্ষণগুলো  প্রকাশ পাবে। এজন্য কিডনি রোগকে কে নীরব ঘাতক বলা হয়ে থাকে।  

কিডনির রোগ নীরব ঘাতক’ হওয়ায় অনেকেই এই রোগ হওয়ার কারণ বা লক্ষণ গুলো জানতে চায়। কিডনি কেন  নষ্ট হয়, এ বিষয়ে যদি আপনার জ্ঞান থাকে,  তাহলে আপনি আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন এবং আপনার কিডনি সুস্থ রাখতে পারবেন। তবে অবশ্যই নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। 

আসুন জেনে নেওয়া যাক ,কিডনি রোগের কারণ অর্থাৎ কি কি কারণে কিডনি রোগ হয়? 

কিডনি রোগের কারণ

কিডনি নষ্ট হওয়ার কারণ অথবা কিডনি রোগের কারণ? 

এ বিষয়ে জানার আগে আপনাকে জানতে হবে আমাদের শরীরে কিডনির কাজ কি কি? 

কিডনির অন্যতম কাজ হলো আমাদের শরীরে হরমোন উৎপাদন করা, 

কিডনি রোগের কারণ

  1. রক্ত পরিশোধন করা, 
  2. শরীর থেকে বজ্রবহ প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে দেওয়া, 
  3. শরীরের ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং 
  4. শরীরের লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা। 

অর্থাৎ কিডনি আপনার শরিরে এক প্রকার ছাকুনির মত কাজ করে।

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে কিডনি অন্যতম। কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক কিডনি নষ্ট হওয়ার কারণ।

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব ধরে রাখা

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব ধরে রাখলে কিডনির উপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। যার ফলে ধীরে ধীরে কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। অনেকেই আছেন প্রস্রাবের চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রস্রাব করেন না। হয়তো এখন কিডনি সমস্যা দেখা দিচ্ছে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সমস্যা আরো প্রকট হবে। 

তাই আপনাকে অবশ্যই প্রস্রাব করা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। 

কম পানি পান করা

একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক 3 থেকে 4 লিটার পানি পান করা জরুরি। নিয়মিত পানি পান করার উপকারিতা রয়েছে অনেক। পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। 

পানিকে বলা হয়ে থাকে জীবন। অর্থাৎ পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আপনার শরীর এবং আপনার আশেপাশে কোন কাজই সম্ভব না। 

শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। 

বৈজ্ঞানিক ডাক্তারদের গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে কিডনি সমস্যার কারন গুলোর মধ্যে কম পানি পান করা অন্যতম। 

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে , পানির সাথে কিডনি রোগের সম্পর্ক কি? 

হ্যাঁ, অবশ্যই সম্পর্ক আছে । আমাদের শরীরে যে বর্জ্য পদার্থ এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষতিকর পদার্থ থাকে, তা পানি কিডনি থেকে বের করে দেয় । আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করেন তাহলে এই ক্ষতিকর পদার্থ আপনার কিডনিতে থেকে যাবে। যার ফলে আপনাকে কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাবে।  

আপনার কিডনি যদি কাজ করা বন্ধ করে দেয় ,তাহলে আপনি এক থেকে  দুই মাসের মধ্যে মারা যাবে। 

অধিক মাত্রায় লবণ গ্রহণ 

কিডনি আপনার শরীরের লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই আপনি যদি অধিক পরিমাণে লবণ খান তাহলে কিডনি এই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেনা। ফলে আপনার শরীরে অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়, সাথে কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। 

অনেকেই আছেন যারা তরকারিতে অধিক পরিমাণে লবণ ব্যবহার করেন । এছাড়াও ভাতের সাথে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খেয়ে থাকেন। এদের কিডনি সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা 70 থেকে 80 পার্সেন্ট। 

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন সুস্থ থাকার জন্য লবণ বা সোডিয়ামের প্রয়োজন আমাদের শরীরে। আমাদের শরীরে লবণের প্রয়োজন আছে কিন্তু অধিক পরিমাণে লবণ আমাদের শরীরের প্রয়োজন নেই। আমরা স্বাভাবিকভাবে তরকারির সাথে যে লবণ চেয়ে থাকি তাতে আমাদের শরীরে লবণের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। 

একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন 5.8 গ্রাম লবণ খাওয়া প্রয়োজন। এর বেশি লবণ খেলে আপনার কিডনির সমস্যার কারণ হতে পারে। 

গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, আপনি যদি অধিক পরিমাণ লবণ খান তাহলে কিডনি এই লবণকে পরিশোধন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । তাই আপনার শরীরের রক্ত বা অন্যান্য কার্যক্রম কিডনি করতে পারে না। 

যার ফলে কিডনির উপর মারাত্মক চাপ পরে। লবণ গ্রহণের ফলে কিডনি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হাই ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি পায়। লবণ ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। 

অধিক মাত্রায় প্রোটিন যুক্ত খাদ্য

মানুষের শরীর সচল রাখতে প্রোটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু অধিক মাত্রায় গ্রহণ করলে কিডনি রোগের কারণ বা কিডনি নষ্টের কারণ হয়ে ওঠে। 

মানুষের পরিপাকতন্ত্র প্রোটিন পরীক্ষা করার পর অ্যামোনিয়া নামক একটি বজ্র পদার্থ উৎপাদন করে। এই এমোনিয়া পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। তাই অধিক মাত্রায় প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত না। 

ব্যথানাশক ওষুধ সেবন

অনেকে শরীরের নানান রকম ব্যথা থেকে থাকে। অনেক মানুষ আছেন যারা এই ব্যথা দূর করার জন্য নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। ব্যথানাশক ওষুধের উপকারিতা অনেক। তারমধ্যে কিডনির সমস্যা অন্যতম। 

প্রায় সব ধরনের ব্যথানাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। ব্যথানাশক ওষুধের প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো আপনার কি দিতে আঘাত করা। কিডনির উপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে। 

কোন ওষুধই অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করা ঠিক না। ওষুধ ছাড়া কিভাবে শরীর সুস্থ রাখা যায়। অনেক উপায় আছে ওষুধ ছাড়া আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে পারবেন। 

সুতরাং কারণে-অকারণে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত না। যদি আপনার শরীরের কোন ব্যথা লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন। 

কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকস গ্রহণ

বর্তমান যুগে কোমল পানীয় খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট থেকে বৃদ্ধরা এই সব ড্রিংস বা কোমল পানীয় কে খুব পছন্দ করে থাকে। 

আপনার কিডনি নষ্ট হওয়ার পিছে এই কোমল পানীয় মারাত্মক ভূমিকা রাখতে পারে। 

কোমলপানীয় আপনার শরীরে রক্তচাপ এর সৃষ্টি করে এবং ধীরে ধীরে তার কিডনির উপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। একসময় ধীরে ধীরে আপনার কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। 

ধূমপান

ধূমপান করা কিডনি রোগের অন্যতম একটি কারণ। ধূমপানের কারণে শুধু কিডনি নষ্ট হয় এমন না ,ধূমপানের কারণে আপনার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

ক্যাফেইন গ্রহণ

শরীর ঝিমঝিম করছে হুট করে ফান করে নিলাম এক কাপ কফি আপনি কি জানেন পক্ষে রয়েছে পেন নামে এক রকম তথ্য যা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

খুব তৃষ্ণা পেয়েছে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ফান করলাম সব কিন্তু আপনি কি জানেন এই সব কিনছে রয়েছে অধিক পরিমাণ ক্যাফেইন আপনার শরীর এবং কিডনি কে নষ্ট করে দিচ্ছে। 

কিডনি রোগের প্রধান কারন গুলোর মধ্যে ক্যাফেইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ। 

ক্যাফিন কিভাবে কিডনি নষ্টের কারণ হয়ে ওঠে। গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে ক্যাফে ইন আপনার শরীরের উচ্চ রক্ত চাপ সৃষ্টি করে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনিতে প্রচুর পরিমাণে প্রভাব সৃষ্টি হয়। যার ফলে কিডনি ফিরে ফিরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। 

রাতে কম ঘুমানো

অনেকেই আছেন যারা অকারণে রাত জাগেন। আবার অনেকে আছেন রাত জাগাতে তারা আধুনিকতা মনে করে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি করেছেন মানুষের ঘুমের জন্য। 

আপনার শরীরকে সুস্থ সবল রাখতে রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম আপনার প্রয়োজন।

আপনি কি জানেন আপনি ঘুমানোর পরে আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিছু কাজ করে থাকে যা পরের দিন আপনার শরীর চালাতে সাহায্য করবে। 

ঠিক তেমনি কিডনি শরীরের রাতের বেলায় এক ধরনের হরমোন উৎপাদন করে যা আপনার শরীরের জন্য খুবই জরুরী। 

রাতে না ঘুমানোর ফলে কিডনি এই হরমোন উৎপাদন করতে পারে না। যার ফলে এই হরমোন দ্বারা যে কাজ আপনার শরীরের হবার কথা ছিল সেটা হতে পারে না। 

অতিমাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ

অ্যালকোহল বা মদ্যপান আপনার লিভারে মারাত্মক ক্ষতি করে । এর সাথে আপনার কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি করে। 

কিডনি রোগের কারন গুলোর মধ্যে অ্যালকোহল অন্যতম একটি কারণ। আপনার শরীর এবং কিডনি সুস্থ রাখতে অবশ্যই অ্যালকোহল বা মদ্যপান করা যাবে না। 

আমরা হয়তো প্রতিরোধ এবং প্রতিকার এই তিনটা শব্দ সচারাচার শুনেছি। আপনার শরীরে যখন কিডনি রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করবে আপনি যদি তখন থেকেই বাধা সৃষ্টি করেন তাহলে কিডনি রোগ হবে না। কিন্তু একবার যদি এই রোগ হয়ে যায় তাহলে এটা সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হওয়া সম্ভব না। 

আপনার জীবন যাপন খাদ্যভ্যাস এই দুইটা জিনিস কিডনি রোগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে সুস্থ রাখতে এবং আপনার পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখতে অবশ্যই খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের নিয়ম পরিবর্তন করুন। 

ভালো থাকুন আপনি, ভালো থাকুক আপনার পরিবার, ,ভালো থাকুক আমাদের দেশবাসী। 

আরও …

কী কারণে পিরিয়ডের সময় তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হয়?- পিরিয়ডের ব্যথা ।

By Mahedi

লেখালেখি আমার সখ ও পেশা। আমি টেক্সটাইল এর উপর বিএসসি করেছি। কিন্তু পেশা হিসেবে ব্লগিংকে বেছে নিয়েছি। বর্তমানে এটি খুবই সন্মানজনক পেশা। আমি সাধারণত খেলাধুলা, ছবি, পড়াশোনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখতে ভালবাসি ।

One thought on “কিডনি রোগের কারণ কি বা কি কি কারনে কিডনি রোগ দেখা যায়।  অথবা কিডনি কেন নষ্ট হয়ে যায় ?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *