পিরিয়ডের ব্যথা মূল কারণ হলো জরায়ু সংকোচন । যার ফলে ভিতরের একটা পাতলা চামড়া বা লেয়ার খসে যায়। এই পাতলা লেয়ার পিরিয়ডের রক্ত হিসেবে বের হয়। এছাড়াও একটি হরমোনের প্রভাবে এই ব্যাথা অনুভূত হয়। 

এই ব্যাথা খুবই সাধারণ বিষয়। ৮০% মেয়ের এই ব্যাথা হয়ে থাকে। 

পিরিয়ডের ব্যাথা কমানোর উপায়

পানি পান করুন

পিরিয়ডের সময় প্রতিদিন কমপক্ষে 5 থেকে 6 প্লাস পানি পান করুন। পানিতে লেবুর রস অথবা পুদিনা পাতা দিয়ে খেতে পারেন। 

অনেকের পিরিয়ডের সময় বমি এবং ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা যায় যার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা সম্ভাবনা থাকে। এই পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং পানীয় জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। 

আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস

চর্বি মিষ্টি লবণজাতীয় টক জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা। বিশেষ করে টক জাতীয় খাবার পিরিওডের সবথেকে বেশি ক্ষতি করে বা কষ্টদায়ক অবস্থার সৃষ্টি করে। 

ফুচকা অথবা অন্যান্য কিছু খাওয়ার সময় সব সময় আমরা টক চেয়ে থাকি। এই টক জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন। 

যদি সম্ভব হয় বেশি বেশি করে টমেটো কাঠবাদাম সবুজ শাকসবজি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন। 

মাসিকের জন্য আদা

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে একটি ব্যথানাশক ওষুধ পিরিওড এর ব্যথা কমাতে যতটা সাহায্য করে আদার ক্যাপসুল ঠিক ওই পরিমাণ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। 

তাই  পিরিয়ড হলে অবশ্যই আদা খাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

আধার মধ্যে এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ব্যথা অনুভূতি সৃষ্টি করতে দেয় না। 

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ওষুধ

পিরিয়ডের সময় তলপেটে প্রচুর ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা হওয়া টা খুবই স্বাভাবিক। এই ব্যথা ওষুধ খেলে কমে যায়। যেকোনো ব্যথানাশক ওষুধ খেলে এই ব্যথা কম। কিন্তু ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে এই ব্যথা কমানো একদম ঠিক না। 

ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের ফলে যে কোন মেয়ে গর্ভধারণ করার সমস্যায় পড়তে পারে। 

পিরিওড এর ব্যথা মেয়েদের স্বাভাবিক একটা বিষয়। এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিতে হবে। 

তবে যদি এই ব্যথা অনেক বেশি হয় তাহলে আপনার কিছু করণীয় আছে। 

  • যদি অস্বাভাবিক ভাবে এই ব্যথা বেড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই মহিলা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • অথবা ,আপনার খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করুন।
  • ব্যথানাশক ওষুধ খেলে আপনার যে ক্ষতি হতে পারে।
  • পিরিয়ডের রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলে আপনার স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে। যার ফলে ভবিষ্যতে আপনার অনেক বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

এই ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের ফলে আপনার কিডনি এবং হৃদ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

কি কি উপায়ে এই ব্যথা কমানো সম্ভব। 

  • বেশি বেশি পানি পান করুন। 
  • টক জাতীয় খাবার কম খান। 
  • শাকসবজি বেশি খেতে হবে। 
  • নিজের শরীরকে ফিট রাখুন। 
  • ব্যায়াম অথবা ইয়োগা করতে পারেন। 
  • ফ্যাট জাতীয় খাবার কম খাবেন। 
  • হট ওয়াটার তলপেটের এখন একটু আরাম অনুভূত হবে। 
  • ব্যথা অতিরিক্ত দেখা দিলে গাইনি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। 

পিরিয়ডের সময় স্বামীর করণীয় 

পিরিয়ডের সময় স্বামীর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় স্ত্রীর সাথে যৌন মিলন জীবন ঝুঁকি পূর্ণ হতে পারে। স্বামীর উচিত-

  1. স্ত্রীকে সময় দেওয়া। 
  2. যৌন মিলন না করা। 
  3. স্ত্রীর দেখাশোনা করা। 
  4. সঙ্গীকে হাসিখুশি রাখা যেন ব্যথা ভুলে থাকতে পারে। 

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাসি আপনার ব্যথা কমাতে এন্টি বডির কাজ করে। 

পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যাথা হবে এটা একদম স্বাভাবিক। যদি এই ব্যথা খুব বেশি পরিমাণে হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। ব্যথা ছাড়াও বমি মাথা ঘোরা ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে পারে। তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। স্বাভাবিক অবস্থায় এগুলো আপনার জন্য ক্ষতিকর নয়। 

বমি মাথা ঘোরা ডায়রিয়া হলে তার জন্য স্বাভাবিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। 

মনে রাখবেন পিরিওডের তলপেটের ব্যথা কমাতে কোন ধরনের ওষুধ খাওয়া ঠিক না। 

By Mahedi

লেখালেখি আমার সখ ও পেশা। আমি টেক্সটাইল এর উপর বিএসসি করেছি। কিন্তু পেশা হিসেবে ব্লগিংকে বেছে নিয়েছি। বর্তমানে এটি খুবই সন্মানজনক পেশা। আমি সাধারণত খেলাধুলা, ছবি, পড়াশোনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখতে ভালবাসি ।

One thought on “কী কারণে পিরিয়ডের সময় তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হয়?- পিরিয়ডের ব্যথা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *