আমরা যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী তারা অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের দোয়া, সুরা মুখস্ত করি। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা মুখস্থ করার পরেও ভুলে যান। মানুষের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা খুবই বেশি। আর ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। 

মুখস্থ করে ভুলে যাওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ হলো আমাদের স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া।

তাহলে এই স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায় কি?  

হ্যাঁ ,আজকে ইসলামিক ভাবে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায় , নিয়ম এবং জীবনযাপনের কথা বলব যেগুলো অনুসরণ করলে আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও কিছু খাবার আছে যে খাবারগুলো খেলে মানুষের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। 

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মানুষের ব্রেনের কোটি-কোটি সেল থাকে । যে সেলে মানুষের স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে। সেই সেলে যদি আপনি প্রতিদিন নতুন কোন কিছু না রাখেন তাহলে অনেকগুলো সেল নষ্ট হয়ে যায়। 

সেজন্য যারা অলস ভাবে জীবন যাপন করে তাদের স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে লোপ পায়। 

যারা সবসময় পড়াশোনা, কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ- কালাম এর মধ্যে থাকে তাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। 

তাদের স্মৃতির সেলে সব সময় কিছু না কিছু জমা হতে থাকে। যার ফলে সেল গুলো নষ্ট হয়ে যায় না। 

ইখলাস  বা আন্তরিকতা

যেকোনো কাজের সফলতা অর্জনের ভিত্তি হচ্ছে এ ক্লাস বা আন্তরিকতা। আর এই এখলাস দা আন্তরিকতার মূল বিষয় হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। নিজের ব্যক্তিত্বকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যেন সৃষ্টিকর্তার প্রতি আন্তরিক হোন এবং সৃষ্টিকর্তার নেয়ামতের স্বীকার করেন। 

দোয়া বা জিকির করা

সকল ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা। আপনার স্মৃতিশক্তি যদি কমে যায় তাহলে অবশ্যই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন।

“হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন”

[সূরা ত্বা-হাঃ ১১৪]

তাই আমাদের উচিত যিকর, তাসবীহ (সুবহান আল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) – এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করা।

পাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন

প্রতিনিয়ত পাপ কাজ করলে আল্লাহ আপনার উপর নারাজ হন। যার ফলে ধীরে ধীরে আপনার স্মৃতিশক্তি আল্লাহ কমিয়ে দেন। পাপের অন্ধকার এবং জ্ঞানের আলো কখনো একসাথে থাকতে পারে না। আল্লাহর জ্ঞান হলো আলো। একজন পাপ কারী ব্যাক্তির কখনো আলোর পথচারী হতে পারে না। 

তাই আমাদেরকে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। নামাজ পড়তে হবে এবং রোজা রাখতে হবে তাহলে আমরা খুব সহজে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে পারব। 

বিভিন্ন উপায়ে মুখস্ত করার চেষ্টা: 

সব মানুষের মুখস্ত করার কৌশল একরকম হয় না। যে উপায়ে আপনি দ্রুত মুখস্থ করতে পারবেন সেই হয়ে আপনাকে কোনো কিছু মুখস্থ করতে হবে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে আপনি যখন কোন কিছু করবেন তার দৃশ্য অথবা সেই সম্পর্কে আপনার মাথায় যদি কোন ছবি থাকে তাহলে ঐ বিষয় মাথার মধ্যে অনেকক্ষণ থাকে। 

আবার আপনার মুখস্ত করার পদ্ধতির উপর অনেক সময় আপনার স্মৃতিশক্তি কতক্ষণ থাকবে তা নির্ভর করে। অনেকেই আছেন যারা হাঁটাহাঁটি করে পড়াশোনা করলে দ্রুত মুখস্থ হয় এবং অনেকদিন পর্যন্ত মাথার মধ্যে থাকে। অনেকে আছে নিরব পরিবেশে কোন কিছু ভাবতে বা পড়াশোনা করতে পছন্দ করেন। 

একেকজনের জীবন-যাপনের ওপর নির্ভর করে। 

বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করা:

একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখবো যে, আমাদের সকলের মুখস্থ করার পদ্ধতি এক নয়। কারো শুয়ে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কারো আবার হেঁটে হেঁটে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়। কেউ নীরবে পড়তে ভালোবাসে, কেউবা আবার আওয়াজ করে পড়ে। কারো ক্ষেত্রে ভোরে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কেউবা আবার গভীর রাতে ভালো মুখস্থ করতে পারে।

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ উপযুক্ত সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ঠিক করে তার যথাযথ ব্যবহার করা। আর কুর’আন মুখস্থ করার সময় একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কুর’আনের আরবি কপি) ব্যবহার করা।

কারণ বিভিন্ন ধরনের মুসহাফে পৃষ্ঠা ও আয়াতের বিন্যাস বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে তার একটি ছাপ পড়ে যায় এবং মুখস্থকৃত অংশটি অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

 

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি জন্য কখনো হাল ছাড়বেন না নিয়মিত আপনার ব্রেনকে অনুশীলন করান বিরোধীদের আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। 

যে সকল খাবার খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়

  • কালোজিরা
  • মধু
  • দুধ
  • শাকসবজি

কালোজিরা মৃত্যু বাদে প্রায় সকল রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে মধু এবং দুধের ভূমিকা অনেক । 

 হাল না ছাড়া যে কোনো কাজে সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হাল না ছাড়া। যে কোনো কিছু মুখস্থ করার ক্ষেত্রে শুরুটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্ক সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেয়। তাই আমাদের উচিত শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে হাল না ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

By Mahedi

লেখালেখি আমার সখ ও পেশা। আমি টেক্সটাইল এর উপর বিএসসি করেছি। কিন্তু পেশা হিসেবে ব্লগিংকে বেছে নিয়েছি। বর্তমানে এটি খুবই সন্মানজনক পেশা। আমি সাধারণত খেলাধুলা, ছবি, পড়াশোনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখতে ভালবাসি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *